• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুরকিনা ফাসো

২৪ ঘন্টা / ৪
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ বুরকিনা ফাসো সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ঘোষণায় দেশটির সামরিক সরকার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, বুরকিনা ফাসোর সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাচ্ছে, আজ ২৬ জুন ২০২৬ থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরের নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে।

সরকারি ঘোষণায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বুরকিনা ফাসোর স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী গিলবার্ট ওয়েদরাওগো বলেন, পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয় পরিবেশ আর বিদ্যমান নেই।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্রান্স ‘নব্য ঔপনিবেশিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে এবং দেশটির ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীদের সহায়তা দিচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকার দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং তাদের সম্পদ জব্দ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ দেশটির গণতন্ত্রের জন্য বড় ধাক্কা।

স্থলবেষ্টিত দেশ বুরকিনা ফাসো বর্তমানে উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে আল-কায়েদা-সমর্থিত জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রভিন্স (আইএসএসপি)। এ গোষ্ঠীগুলো প্রতিবেশী মালি ও নাইজারেও সক্রিয়।

এদিকে, দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানায়, ফুলানি জনগোষ্ঠীর বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

তবে সরকার জানিয়েছে, ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের সিদ্ধান্ত কেবল রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বুরকিনা ফাসো ও ফ্রান্সের জনগণের মধ্যকার ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে না। একইসঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

একসময় উত্তর, মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকায় প্রভাবশালী শক্তি ছিল ফ্রান্স। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সাহেল অঞ্চলের সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলো ধীরে ধীরে ফ্রান্স থেকে দূরে সরে গিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।


এই ক্যাটেগরির আরও খবর