• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন

স্বজনের খোঁজে নেপালে ‘নিখোঁজদের দেয়াল’

২৪ ঘন্টা / ৬
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালের দেয়ালে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। দেয়ালজুড়ে টাঙানো হয়েছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি। সেখানে উদ্ধার হওয়া কিন্তু এখনো শনাক্ত না হওয়া মরদেহের ছবিও রাখা হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের ওই দেয়ালে প্রতিদিন আসছেন স্বজনহারা মানুষ। তাদের একজন সতী সিগদেল। তার নিখোঁজ চাচাতো বোন সুইটি পাইথানের ছবি তিন দিন আগে দেয়ালে টাঙানো হয়েছে। তবে এখনো তার কোনো খোঁজ পাননি সিগদেল।
সিগদেল বলেন,

আমি প্রতিদিন আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে আসি, কোনো খবর পাওয়ার আশায়।

গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এখনো প্রায় ৪ হাজার ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।

উদ্ধারকারীদের ধারণা, প্রায় ৯০০ মানুষ এখনো জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তাদের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বুধবার রাতে কাঠমান্ডুর হাসপাতালের দেয়ালের সামনে কয়েকজনকে ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতে দেখা যায়। কেউ কেউ কাছাকাছি থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে নিখোঁজ স্বজনের নাম জানতে চাইছিলেন।

স্বজন নিখোঁজ এমন এক নারী স্বপ্না নেউপানে বলেন, তার মামার পরিবারের চার সদস্যের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন,

আমরা একটি অলৌকিক ঘটনার আশায় আছি। হাজার হাজার ছবির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কঠিন।

দেয়ালে থাকা ছবিগুলোর কিছু পোস্টারের সঙ্গে টাঙানো হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিচয় ও যোগাযোগের নম্বর লেখা রয়েছে। আবার কিছু ছবির নিচে হাতে লেখা তথ্য রয়েছে।

এদিকে কাঠমান্ডুর বাগমতী নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দিরে কিছু পরিবার নিখোঁজ স্বজনের মরদেহ না পাওয়ার পর খড় দিয়ে তৈরি প্রতীকী মরদেহের শেষকৃত্য করছেন।

তাপিন্দ্র প্রসাদ তিমালসিনা তার ২১ বছর বয়সী স্বজন সাবিনের খড়ের প্রতিকৃতির শেষকৃত্য করেন। হিন্দু পুরোহিতের প্রার্থনার মধ্যে প্রতিকৃতিতে পানি ঢালার পর সেটিতে আগুন দেওয়া হয়।

তিমালসিনা বলেন, ‘এটি আমার হৃদয়ে গভীর ভার হয়ে আছে।’

তবে হাসপাতালের দেয়ালে এখনো স্বজনের ছবি খুঁজে চলেছেন সতী সিগদেল। নিখোঁজদের তালিকায় থাকা স্বজনের কোনো খবর পাওয়ার আশায় প্রতিদিনই সেখানে যাচ্ছেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স


এই ক্যাটেগরির আরও খবর