রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর হোটেল গ্র্যান্ড প্রিন্স রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আন নুর একাডেমির নবীন বরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লান্তাবুর গ্রুপ ও আন নুর একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ সালমান। এছাড়াও একাডেমির অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং তাদের সফল শিক্ষাজীবনের জন্য শুভকামনা জানানো হয়। একই সঙ্গে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাফল্য কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, ইসলামিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নাটিকা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। পাশাপাশি বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথি মোহাম্মদ সালমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সালমান বলেন, বর্তমান যুগে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করাই যথেষ্ট নয়; একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “শুধু ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা পাইলট হওয়াই যথেষ্ট নয়; একজন শিক্ষার্থীকে সর্বপ্রথম ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী দেশ ও সমাজের প্রকৃত সম্পদে পরিণত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, আন নুর একাডেমি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য, সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, নেতৃত্বের বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির অন্যতম ক্ষেত্র। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আরও উৎসাহিত করবে।
দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অতিথিদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।