Menu

রাসূল (সা.) এর প্রিয় কন্যা ফাতেমা (রা.)

  • Print
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দাহিয়া আবদুল্লাহ মোবারক শহরে অবস্থিত সিদ্দিকা ফাতেমাতুজ জোহরা মসজিদ। ২০১১ সালে মসজিদটি নির্মাণ সমাপ্ত হয়। ৩ হাজার ২০০ বর্গমিটারের ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পুরুষ ও ৫০০ নারীর নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দাহিয়া আবদুল্লাহ মোবারক শহরে অবস্থিত সিদ্দিকা ফাতেমাতুজ জোহরা মসজিদ। ২০১১ সালে মসজিদটি নির্মাণ সমাপ্ত হয়। ৩ হাজার ২০০ বর্গমিটারের ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদটিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ পুরুষ ও ৫০০ নারীর নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে
ড. আহমদ আবুল কালাম
মুসলিম মাত্রই আহলে বায়াতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। আহলে বায়াত হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর গৃহবাসী ও আত্মীয়-পরিজন। ফাতেমা (রা.) ছিলেন তাদের অন্যতম। আহলে বায়াতকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসা যে কোনো মোমিনের ঈমানের দাবি। আবু বকর (রা.) বলেন, মুহাম্মদ (সা.) এর পরিবারবর্গের প্রতি তোমরা অধিক সম্মান দেখাবে। (বোখারি : ৩৭১৩ ও ৩৭৫১)।
নবীকন্যা ফাতেমা (রা.) পাকপাঞ্জাতনের একজন। অন্য চারজন হলেন মুহাম্মদ (সা.), আলী (রা.), হাসান (রা.) ও হোসাইন (রা.)। বস্তুত কোরআন ও সহিহ সুন্নাহের দৃষ্টিতে এ পাঁচজন যে আহলে বায়াত বা পাকপাঞ্জাতন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তাদের বাইরেও রয়েছেন আহলে বায়াতের অনেক সদস্য। (ফাতহুল বারি : ১৬০, ১৭১)
তার স্বামী আলী ইবনে আবু তালেব (রা.)। তিনি ইসলামের চতুর্থ খলিফাতুল মুসলিমিন। তিনি প্রিয় নবী (সা.) এর চাচাতো ভাই, আহলে বায়াতের বিশিষ্ট সদস্য। তিনি ৬০০-৬০১ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আবু তালেব ও মাতা ফাতেমা বিনতে আসাদ। পিতা-মাতা উভয় দিক থেকে তিনি কোরাইশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা হাশিমি বংশোদ্ভূত। তার উপাধি হায়দার (সিংহ) ও আসাদুল্লাহ (আল্লাহর বাঘ)। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর গৃহে ও তাঁরই তত্ত্বাবধানে তিনি প্রতিপালিত হন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সর্বপ্রথম ইসলাম প্রচারকালেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তার বয়স ১০ বছর। খাদিজা (রা.) এর পরে তিনি বা হজরত আবু বকর (রা.) সর্বপ্রথম মুসলিম। তিনি ফাতেমা (রা.) এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দ্বিতীয় হিজরি ৬২৩-২৪ খ্রিস্টাব্দে। তখন হজরত আলী (রা.) এর বয়স ২৪ আর হজরত ফাতেমা (রা.) এর বয়স ১৯।
তার বিয়ের ঘটনা : আবু বকর, ওমর, সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.) আলী (রা.) কে ফাতেমা (রা.) এর সঙ্গে তার বিয়ের প্রসাব দিতে উৎসাহিত করেন। আর এটি ছিল বদর যুদ্ধের পরের ঘটনা। উসমান (রা.) আলী (রা.) থেকে ৪০০ দিরহামের বিনিময়ে একটি লৌহবর্ম ক্রয় করেন। এরপর আলী (রা.) যখন দিরহামগুলো বুঝে নেন তখন উসমান (রা.) বর্মটি তাকে সম্প্রদান করে বলেন, এটি আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য উপহারস্বরূপ।
পিতার কথায় হাসি-কান্না : আয়েশা (রা.) বলেন, যে রোগে রাসূলুল্লাহ (সা.) ওফাত লাভ করেন সে সময়ে তাঁর মেয়ে ফাতেমা (রা.) কে ডেকে আনলেন এবং তার সঙ্গে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে ফাতেমা (রা.) কেঁদে ফেলেন। এরপর আবার কাছে ডেকে এনে তার সঙ্গে চুপে চুপে কিছু বললেন। এতে তিনি হেসে ফেলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি এ ব্যাপারে ফাতেমা (রা.) কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে চুপে চুপে অবহিত করলেন যে, তিনি এ রোগে ওফাত লাভ করবেন। এতে আমি কেঁদেছিলাম। তারপর আবার আমাকে চুপে চুপে জানান, আমি তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রথম ব্যক্তি যে তাঁর সঙ্গে মিলিত হবো। এতে আমি হেসেছিলাম। (বোখারি : ৩৬২৬ ও ৩৬২৭)।
পিতার উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ : আয়েশা (রা.) বলেন, আবু বকর (রা.) এর কাছে ফাতেমা (রা.) নবী করিম (সা.) থেকে তাঁর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অংশ দাবি করলেন, আল্লাহ তায়ালা যা তাকে বিনাযুদ্ধে দান করেছিলেন, যেগুলো তিনি সদকা হিসেবে মদিনা ও ফাদাকে রেখে গিয়েছিলেন এবং খায়বরের এক-পঞ্চমাংশ থেকে যে অবশিষ্ট ছিল তাও। আবু বকর (রা.) (তার উত্তরে) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের (নবীদের মালের ওয়ারিশ হয় না। আমরা যা কিছু রেখে যাই তার সবই সদকা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পরিবারবর্গ এ মাল থেকে অর্থাৎ আল্লাহর মাল থেকে খেতে পারবে। তবে (আহারের জন্য) প্রয়োজনের অধিক নিতে পারবে না। আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তা করব, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) করে গেছেন। এরপর আলী (রা.) শাহাদত (হামদ-সানা) পাঠ করে বললেন, হে আবু বকর! আমরা আপনার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবহিত এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে তাদের যে আত্মীয়তা, ঘনিষ্ঠতা রয়েছে তা এবং তাদের অধিকারের কথাও উল্লেখ করলেন। আবু বকর (রা.)ও এ বিষয়ে উল্লেখ করে বললেন, আল্লাহর কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, আমার আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করার চেয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আত্মীয়দের সঙ্গে সদাচরণ করা আমি অধিক পছন্দ করি। (বোখারি : ৩৭১১ ও ৩৭১২)।
স্বামী-স্ত্রীর অভিমান : ফাতেমা (রা.)ও আমাদের মতো মানুষ ছিলেন। তারও স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্যজীবনে মান-অভিমান হত। আবু হাজিম (রহ.) বলেন, এক ব্যক্তি সাহল ইবনে সাদ (রা.) এর খেদমতে হাজির হয়ে বললেন, মদিনার অমুক আমির মিম্বরের কাছে বসে আলী (রা.) সম্পর্কে অপ্রিয় কথা বলেছে। তিনি বললেন, সে কী বলেছে? সে বলল, সে তাকে আবু তুরাব (রা.) বলে উল্লেখ করেছে। সাহল (রা.) (একথা শুনে) হেসে ফেলেন এবং বললেন, আল্লাহর কসম, তাঁর এ নাম রাসূলুল্লাহ (সা.)ই রেখেছিলেন। এ নাম অপেক্ষা তাঁর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো নাম ছিল না। আমি (নাম রাখার) ঘটনাটি জানার জন্য সাহল (রা.) এর কাছে আগ্রহ প্রকাশ করলাম। (বোখারি : ৩৭০৩)।
গৃহের কাজকর্ম : আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, ফাতেমা (রা.) যাঁতা চালানোর কষ্ট সম্পর্কে একদিন আমার কাছে অভিযোগ করেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে কিছুসংখ্যক যুদ্ধবন্দি এলো। ফাতেমা (রা.) (একজন গোলাম পাওয়ার আশা নিয়ে) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর খেদমতে গেলেন। কিন্তু তাকে না পেয়ে আয়েশা (রা.) এর কাছে তার কথা বলে এলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে এলেন তখন ফাতেমা (রা.) এর আগমন ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আয়েশা (রা.) তাকে অবহিত করলেন। আলী (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের এখানে এসেছেন, যখন আমরা বিছানায় শুয়ে পড়ি। তাকে দেখে আমি উঠে বসতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় থাক এবং তিনি আমাদের মাঝখানে এমনভাবে বসে পড়লেন যে, আমি তাঁর পদদ্বয়ের শীতলতা আমার বক্ষে অনুভব করলাম। তিনি বললেন, আমি কি তোমরা যা চেয়েছিলে তার চেয়েও উত্তম জিনিস শিক্ষা দেব না? (তা হলো) তোমরা যখন ঘুমানোর উদ্দেশ্যে বিছানায় যাবে তখন ৩৪ বার 'আল্লাহু আকবার', ৩৩ বার 'সুবহানাল্লাহ', ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ' পড়ে নেবে। এটা খাদেম (যা তোমরা চেয়েছিলে) অপেক্ষা অনেক উত্তম। (বোখারি : ৩৭০৫, ৫৩৬১)।
back to top
United Kingdom Bookmaker CBETTING claim Coral Bonus from link.

প্রধান সম্পাদকঃ  তাজ চৌধুরী                          সম্পাদকঃ  মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানাঃ  ২২০ জুবিলি স্ট্রিট, লন্ডন ই১ ৩বিএস, যুক্তরাজ্য
ফোনঃ  ০২০৮৫২৩৫৯৯৯,  ০৭৯৫১৪৫২৭৩৬
ইমেইলঃ  admin@chobbishghanta.com